সেপ্টেম্বর 28, 2006

Windows® XP বাংলা (ইন্ডিয়া) ইন্টারফেস প্যাক

Posted in ভাষা Project Management 4:32 পুর্বাহ্ন লিখেছেন Aparna

মাইক্রোসফ্‌ট আমাদের জন্য তৈরী করেছে বাংলা উইন্ডোস, যা এক্সপিতে কাজ করবে| ব্যবহার করতে এই সাইটে যেতে হবে|অবশ্য এটা ডাউনলোড করার জন্য আপনার উইন্ডোস হতে হবে বৈধ ভার্সন|

Advertisements

সেপ্টেম্বর 26, 2006

এক মুঠো আকাশ

Posted in ছবি Project Management 5:27 পুর্বাহ্ন লিখেছেন Aparna

আকাশের নানান রূপ, নানান রং, আমাকে ভিষনভাবে টানে| যেমন নিচের ছবিদুটিঃ

Monsoon

মাইসোর যাবার পথে, চামুন্ডী পাহাড়ের মাথায় দেখি মেঘের আনাগোনা|

evening sky

চেন্নাইয়ের এয়ারপোর্টে বাইরে তাকাতেই চোখ গেল ধাঁধিয়ে|

সেপ্টেম্বর 16, 2006

হয়ে গেল ব্লগ্‌ক্যাম্প ২০০৬

Posted in আমার লেখা, ব্লগক্যাম্প Project Management 4:33 অপরাহ্ন লিখেছেন Aparna

lblogcampogo1.jpg

৯ ও ১০ই সেপ্টেম্বর চেন্নাইতে টাইডেল পার্কে হয়ে গেল ব্লগ্‌ক্যাম্প ২০০৬| এক ছাদের নিচে জমজমাট ‘আনকনফারেন্স’এ ভাগ নিল প্রায় ২০০র ওপরে ব্লগার যারা এসেছিল দেশের নানা প্রান্ত থেকে| যারা আসতে পারেনি তাদেরও যোগ দেবার উপায় ছিল IRC চ্যানেলের মাধ্যমে| উপস্থিত ছিল সাংবাদিকের দল|আর স্পন্‌সর হিসেবে ছিল ইয়াহু ইন্ডিয়া, নোকিয়া, ফোর্ডের মতন কোম্পানিরা|

কলকাতা থেকে ৯ তারিখের সকালে যখন গিয়ে পৌছই, তখন আলোচনা চলছে পুরোদমে| যদিও আগের থেকে কিছু আলোচ্য বিষয় ঠিক করা হয়েছিল, কিন্তু ‘আনকন্‌ফারেন্সের’ আমেজ বজায় রাখতে একটা বোর্ড (“পেপার উইকি”)রাখা হয়েছিল এবং যে কেউ তাতে নিজের নাম ও সে কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চায়, এবং কোন গ্রুপে, তা যোগ করার সুযোগ পাচ্ছিল|
নেহার তোলা উইকির ছবি (ফটো কার্টেসি নেহা)

প্রথম যে বিষয়টা আমার ভাল লাগলো সেটা হচ্ছে “কোলাবোরেটিভ ব্লগিং” নিয়ে দিনা, পিটারনেহা যে আলোচনা নিয়ে এল| ভারতে সুনামির সময়ে এরা যে ‘রিলিফ ব্লগিং’ চালু করেছিল তার সাফল্যের কথা এখন ব্লগদুনিয়ার অনেকেই জানে| এবং তার পরে এসেছে আরো এই ধরনের ‘ডিসাস্টার ব্লগিং’| শুধু ব্লগিং কেন ব্রডব্যান্ড ও স্কাইপ এই সুবিধাগুলি দিয়ে কিভাবে বম্বেতে বসে সুদুর আমেরিকার কেট্‌রিনাবিদ্ধস্ত মানুষদের রিলিফ সম্পর্কে কিভাবে ইন্‌ফরমেশন দেওয়া সম্ভব হয়েছিল তার বিষয়েও জানতে পারা গেল|

একই সময় অন্য ঘরে চলছিল আলোচনা মাল্টিমিডিয়া ব্লগিং নিয়ে, যেমন পডকাস্টিং, ভিডিওব্লগিং, মোবইলব্লগিং ইত্যাদি| সেটা মিস করলাম যদিও এগুলি নিয়ে আরো জানার ইচ্ছে রয়ে গেল|

প্রথম দিন আর যে বিষয়টি ইন্টারেস্টিং লাগল সেটা হল অমিত আগরওয়ালের ‘প্রফেসনাল ব্লগিং” নিয়ে আলোচনা| চাকরি ছেড়ে দিয়ে অমিত পুরোদমে ব্লগিং নিয়ে ব্যস্ত| ব্লগস্পটে ব্লগ লিখেও কি করে সুন্দরভাবে রোজগার করা যায় তা নিয়ে অমিত নানান প্রশ্নের উত্তর দিল, যদিও সে ঠিক কত টাকা পাচ্ছে এই ধরনের বোকা প্রশ্ন সুন্দর ভাবে তাকে কাটিয়ে যেতে দেখলাম|

সন্ধে বেলায় মনোরঞ্জনের জন্য সমুদ্রের ধারে পার্টি ছিল কিন্তু আমার অন্য কাজ থাকায় সেখানে যাওয়া হয় নি| পরের দিন সকাল শুরু হল কিভাবে নানান ব্রান্ড আজকাল ব্লগিং ব্যবহার চালু করেছে সেই আলোচনা নিয়ে| কিন্তু সবার নজর ছিল তার পরের বক্তার দিকে| হ্যা সুনিল গাভাস্কার এসেছিলেন| তিনি আমাদের জানালেন তার ক্রিকেট পডকাস্টিং অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে| ক্রিকেটপ্রেমিদের জানিয়ে রাখি যে গাভাস্কার ব্লগিং করার কথা ভাবছেন|সানি বাই জেস (ফটো কার্টেসি জেস)

দুপুরের দিকে অনেকটা সময় গেল রবার্ট স্কোবলকে কানেক্ট করতে| কিন্তু অবশেষে উনি স্কাইপ-ভিডিও মাধ্যমে ব্লগারদের নানান প্রশ্নের উত্তর দিলেন| শুনতে শুনতে আমি ভাবছিলাম, যে সত্যি কত উন্নত হয়ে উঠছে আমাদের টেক্‌নোলজি, স্কোবল বসে ছিলেন মাঝরাতে তার ছেলের ঘরে ক্যালিফোর্নিয়ায়, আমরা তাকে দেখতে ও শুনতে পাচ্ছিলাম চেন্নাইতে, তিনি আমাদের দেখতে ও শুনতে পাচ্ছিলেন, IRC তেও তার জন্য প্রশ্ন আসছিল, স্কাইপে তা আপলোড করা হছিল এবং তিনি তার উত্তর দিচ্ছিলেন| স্কোবল জানালেন ভারতে তিনি তার পডটেকইন্ডিয়া নিয়ে আসছেন|
জেসের তোলা স্কোবেল (ফটো কার্টেসি জেস)

দুপুর বেলায় একটা বিষয় যেটার ব্যাপারে আমি উৎসাহিত ছিলাম সেটা হল “করপোরেট ব্লগিং”| কিন্তু একই সময় রাখা হয়েছিল অন্য ভাষায় ব্লগিং, ক্রিয়েটিভ কমন লাইসেন্স এই গ্রুপটা, অন্য একটা ঘরে তাই সেখানে গেলাম| সময় যেহেতু খুব কম বাকি ছিল তাই সময় পেলাম ৫মিনিট মাত্র| তারই মধ্যে আলোচনা হল, বাংলা ব্লগিং সংক্রান্ত নানান মুশকিল নিয়ে| দেখা গেল যে অন্যান্য ভাষার (যেমন তামিল) ব্লগাররা আমাদের থেকে বেশ কিছু এগিয়ে গেছেন একই ধরনের সমষ্যার সমাধান খোজার পথে| ইউনিকোডে ব্লগিং করছেন, অনেক এগ্রিগেটর শুরু করেছেন এ নিয়ে ভাবছেন, লেখালেখি, আলোচনা করছেন ইত্যাদি| তবে সমষ্যাগুলি সবারই চেনা| আমাকে একজন প্রশ্ন করলেন স্পেলচেক্‌ সম্পর্কে| অন্য ভাষায় কি করে তা করা সম্ভব| তার উত্তরে একজন তামিল ব্লগার উত্তর দিলেন যে বরাহ তে নাকি এই সুবিধা আছে এবং লেখার পরে ইউনিকোডে কনভার্ট করে পাবলিশ করা যেতে পারে| এ ছাড়া মনে হয় না এখন আর কোনো উপায় আছে| যেহেতু ইংরেজি শ্রোতার সামনে কথা বলছিলাম, আলোচনা শেষ করলাম একটি ইংরেজি লিমারিক (ছড়া) দিয়ে|

এ ছাড়াও এই দুদিনে আরো নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা ছিল যেমন পলিটিক্সে ব্লগিংএর ভুমিকা, সাইন্স ব্লগিং, গ্রামের উন্নতি, প্রযুক্তি নিয়ে ব্লগিং, সিটিজেন জার্নালিস্‌ম, সোশাল বুকমার্কিং ইত্যাদি| প্রত্যেকটি থিমই বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল এবং জানা গেল যে ব্লগাররা কি কি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছেন

যেহেতু আমার ফ্লাইট বিকেলে ছিল আমি শেষ অবধি থাকতে পারিনি| দৌড়ালাম এয়ারপোর্ট| কিন্তু আমার মনে হয় এই ধরনের ক্যাম্প আরো করা উচিত, নানান জায়গায় এবং হয়তো কিছু ক্যাম্প এমন করা উচিত যেখানে এত বিশাল স্কোপ না রেখে অল্প টপিক আরো ডিটেলে আলোচনা করা যেতে পারে| তবে ভাল লাগল এই প্রয়াস| আর এই যে আলাপ হল অনেক নতুন লোকের সাথে, এটাই কি কম পাওয়া? তবে একটা কথা না বলে পারছি না| এত ব্লগারদের মধ্যে মেয়েদের উপস্থিতি ছিল খুবি কম| কেন? তারা গেল কোথায়?

সেপ্টেম্বর 14, 2006

পুজোর চিঠি

Posted in আমার লেখা, কবিতা Project Management 3:17 অপরাহ্ন লিখেছেন Aparna

আজ বইখাতা ঘাটতে ঘাটতে অনেক বছর আগের একটা চিঠি পেলাম|পুজোর চিঠি, এক ভাইয়ের লেখা| তখন আমি চাকরি করছি জোরকদমে, থেমে দম নেবার কথা তখনো মাথা চাড়া দেয়নি| আজ চিঠিটা পড়ে মনে হল অনেকেই এর সাথে নিজেদের মিল খুজে পেতে পারে, তাই তুলে ধরলাম|
—————————————–
সেই চিঠি
রোজই যেমন অফিসে যাও, আজও গেছ বুঝি?
ঘিঞ্জি শহর, নোংরা, কাদা, বৃষ্টি গলিঘুঁজি
তারই মধ্যে বিশাল অফিস, লম্বা মিটিং হল
সকাল সন্ধে আলোচনা, জীবন জাতাকল|

বাজার নিয়ে চিন্তিত সব, প্রফিট বারবে কিসে?
আমার দিদি বাড়ি ফিরছে শেষ রাত্রির বাসে
এমন অনেক দাদা দিদি সকাল সন্ধে ভুলে
খরিদ্দার আর বাজার নিয়ে হিসেব কষে চলে|

এত কিছু হিসেব নিকেশ, তবুও কেন ভোরে
শিশির ভেজা বাগানে আজ শিউলি ঝরে পরে?
সোনালি রোদ আল্পনা দেয় সবুজ ভিজে ঘাসে
রেলের ধারে ঠান্ডা হাওয়া দোলা লাগায় কাশে|

অফিস যেতে ভুল হয়ে যায়, মন ছুটে যায় দূরে
সেই ছোট্টবেলা, ঢাকের বাদ্দি, এসব মনে পরে
পরবেই তো, জন্ম যখন এই বাংলার ঘরে
আগমনি যে এগিয়ে এল, একটা বছর পরে|

যতই থাকো এসি ঘরে, যতই করো কাজ
একটু উদাস হোতেই হবে… শরৎ এল আজ||

**************************

আমার উত্তর
অফিস ঘরে বসে থেকে, নানান কাজের ফাঁকে
হটাৎ দেখি হাত বারিয়ে নতুন দিন এক ডাকে
তা সত্তেও, আবার কাজের মধ্যে গেছি ডুবে
পুজোর তো রে অনেক দেরি, কাশ ফুটেছে সবে!

ঠিক বলেছিস, মনটা কিন্তু পূজোরই দিন গুনছে
শরৎ কালের মিঠে সকাল, কিন্তু কে তা শুনছে?
প্রতিদিনই বলছে ক্লায়েন্ট, স্ট্রাটেজি চাই খাসা
“আমার প্রডাক্ট সফল হবে”, এটাই যে তার আশা|

তাই তো পূজোর কথা ভাবার সময় কমই পাচ্ছি
নানান মিটিং, রিপোর্ট নিয়ে নিত্য লড়ে যাচ্ছি
তবু সেদিন তোর লেখা এই চিঠিখানি পড়ে
দুর্গা পূজার ছুটির আশায় মন উঠল ভরে|

কিছুক্ষনের জন্য ফেলে হাতের সকল কাজ
জানালা দিয়ে তাকিয়ে ভাবি, ‘সত্যি, শরৎ এল আজ’!