07.23.06
মেঘের খেলা
07.22.06
আজকের লেবানন
লেবাননে যুদ্ধ শুরু হবার পর থেকেই আমি বেরুটে ফোন করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। আমার এক প্রিয় লেবানিস্ বান্ধবি সেখানে সবে মা হয়েছে। তার পরিবার ও সে কেমন আছে জানতে রোজ ফোন করছি কিন্তু লাইন পাই না। ই-মেইলেরো কোনো জবাব নেই। তীব্র ভাবে অনুভব করলাম যে বিপদে ঘেরা প্রিয়জনের খবর না পেলে মনের অবস্থা কি হয়।
আজ অবশেষে আম্মানে আরো এক বন্ধুর থেকে ফোনে জানতে পারলাম যে আমার বান্ধবী ভাল আছে। তার ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে রাস্তাপথে বেরুট থেকে আম্মান গিয়ে, সেখান থেকে গ্রীসে তার আত্মীয়দের বাড়ি যেতে পেরেছে। পরিবারের অন্যরাও নিরাপদ স্থানে সরে গেছে কিন্তু বাড়িতেই আটকে আছে। কাজকর্ম সব বন্ধ।
কবে পরিস্থিতি ঠিক হবে কে জানে!
07.20.06
ফিরল ব্লগস্পট
অবশেষে ফিরছে ব্লগস্পট। দেশজুরে ব্লগারদের হইচই, তাদের সংঘবদ্ধ আপিল, মিডিয়ার চাপ, সব মিলিয়ে যা আওয়াজ সৃষ্টি হল তাতে সরকারের ঘুম ভাঙল। যা ভাবা হয়েছিল তাই হল। সব দায় গিয়ে পড়ল আইসপিদের ওপর। এবার থেকে তাদের প্রযুক্তি আর উন্নত করতে হবে যাতে তারা শুধু সাব-ডোমেইন ব্লক করতে পারে।
সে তো হল। কিন্তু এখানেই ব্লগারদের থেমে থাকলে চলবে না। শোনা যায় যে সরকার এইবার আইটি এ্যক্টে ব্লগ বিষয় নিয়ে ভাব্বেন। দেখতে হবে যে নতুন আইন যেন হয় স্বচ্ছ এবং যুক্তিসঙ্গত। যাতে আগামী দিনে দুম করে কারো ব্লগ, কারন না দেখিয়েই, আবার বন্ধ করে না দেওয়া হয়।
আরো একটা ব্যপার নিয়ে ভাবার আছে। একটি সারভে বলছে যে ৪০% মানুষ বলেছেন যে সেকিঊরিটির জন্য সরকার এই পদক্ষেপ (ব্লকিং) নিতেই পারেন। এর থেকে বোঝা যায় যে অনেকেই এখোনো ব্লগ ব্যপারটা সম্বন্ধে খুব একটা ওয়াকিবহাল নন। তাই হয়ত প্রয়োজন টীভী, ম্যগাজিন মাধ্যমে এই নতুন মিডিয়া সম্বন্ধে আরো আলোকপাত করা।
হ্যাপি ব্লগস্পটিং!
07.19.06
ভয়
গোধূলিবেলায় বারান্দায় এসে দাড়াঁই।
এ সময়টা বেশ আলো-আধাঁরি~
আড়াল থেকে পৃথিবীটাকে
দেখা যায় বেশ।
অবশ্য আমার পৃথিবী তো
ওই ভাঙ্গাচোরা রাস্তা
আর ভাঙ্গাচোরা সমাজ
ভাঙ্গাচোরা মানুষ
তাই সই।
তাই দেখি।
সন্ধ্যাবেলায় বারান্দায় এসে দাড়াঁই~
আকাশে তখন সবেমাত্র দু’একটা তারা
উঁকি দিয়ে ঝিকিমিকি জ্বলছে।
অবশ্য ওই তো আকাশ~
বিষবাষ্পে মলিন।
মলিন হৃদয়ে,
মলিন চোখে,
তাই দেখি।
রাত্রে ফের বারান্দাতে এসে দাড়াঁই।
চাঁদের আলোর সাথে
বেশ গল্প করি।
অবশ্য তখন কাউকেই আর
পড়ে না চোখে;
আর অজানা ভয় এক ছেঁকে ধরে।
আকাশে তখন কে যেন এসে দাড়াঁয়।
তাকে আমি ঠিক দেখতে পাই না-
সে তবু দেখে আমায়।।
~অর্ণব রায়
07.18.06
ভারতে কি সত্যিই ব্লগ সেন্সরশিপ চালু হল?
গত কয়েকদিন ধরেই আস্তে আস্তে আমাদের দেশের নানান দিক থেকে ব্লগাররা যানাচ্ছিলেন যে তারা তাদের ব্লগ আপলোড করতে পারছিলেন না।
সমষ্যাটা শুরু হয় ব্লগষ্পট নামক ডোমেইনটিতে। যদিও প্রথমে মনে করা হচ্ছিল যে এটি কোনো আইএসপি সঙ্ক্রান্ত সমষ্যা, কিন্তু পরে জানা যায় যে সম্ভবত ভারতিয় সরকারের আদেশেই এই ‘সেন্সরশিপ’।
যেহেতু সরকার থেকে এখনো কোন বিবৃতি দেওয়া হ্য় নি তাই এই মুহূর্তে দেশে ব্লগারদের মনে নানান প্রশ্ন ও রাগ জমে উঠছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে যে দেশে টেররিস্মের মোকাবিলা করার জন্য ও মুমবাই এ বম্ব ব্লাস্ট হওয়ার পর সরকার এমন কিছু ব্লগ বন্ধ করতে চেয়েছিল যা জাতিয়তাবোধের বিরোধি মন্তব্য করছিল এবং যেগুলি টেরোরিস্ম ছড়ানর জন্য অন্যদের প্ররোচিত করছিল।
সরকারের এই পদক্ষেপে হয়ত কারোর তেমন আপত্তি থাকত না কিন্তু তা করতে গিয়ে, আইএসপিগুলি পুরো ডোমেইনগুলিই ব্লক করে দিয়েছে। একেই বলে ধরে আনতে বল্লে বেঁধে আনা!
এখন এই খবরটি সারা দেশে ছড়িয়ে পরেছে এবং ‘মেইন স্ট্রিম মিডিয়া, অর্থাৎ’ খবরের কাগজ ও টিভি চ্যানলগুলি এই নিয়ে চর্চা করতে আরম্ভ করেছে। ব্লগাররাও বসে নেই। তারাও দলবদ্ধ হয়ে সরকারের থেকে এর জবাব চাইবার জন্য তৈরি হচ্ছে।
যদি দেখা যায় যে আসলে ভুলটা আইএসপি সঙ্ক্রান্ত এবং অচিরেই তা মিটে যায় তবে এটা একটা নিছক দূ্র্ঘটনা বলে দেখা গেলেও যেতে পারে। কিন্তু যদি এটা সত্যি হয় যে ভারত সরকার ইছছাকৃত ভাবে এই পপুলার ডোমেইনগুলি সেন্সর করে বন্ধ করে দিয়েছে তাহলে বুঝতে হবে যে আমরা আবার অন্ধকার যুগের দিকে পা বারিয়েছি।
কিন্তু মজার কথা এই যে অনেকেই এখন যে সব প্রক্সি স্রভর দিয়ে তাদের বন্ধ ব্লগ খুলছেন তার মধ্যে একটি রাস্তা তৈরি করেছেন পাকিস্তানি ব্লগাররা। শেষ পর্যন্ত ব্লগিংই বোধহয় দেশ নির্বিচারে মানুষের মনের মিল ঘটাতে সাহায্য করবে। আমরা শেই দিনের আশায় রইলাম।
এখন দেখা যাক এই জল কতদূর গড়ায়।
07.14.06
আমার আমি
বাড়িটিতে একটি তৃতীয় ব্যক্তিও ছিল।
আমি, তুমি ও সে ~
এই নিয়ে আমাদের সুখী সংসার।
বেশ ছিলাম;
হঠাৎ একদিন দমকা হাওয়া
এসে বলল “তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না~”
ঘাসফুল মাথা নেড়ে সায় দিল
আকাশে ভেসে থাকা আহ্লাদী মেঘ
বলল “ঠিক, ঠিক–”
তাকে দূর করে দিলাম।
তারপর শুধু আমি ও তুমি –
এই আকাশ, এই মাটি, এই জল
শুধু আমার আর তোমার।
বেশ ছিলাম;
কিন্তু দমকা হাওয়া, ফিরে এলো তবু
হায় হায় করে সে বলল,
“নেই, নেই –”
ঘাসফুল রইল চুপ করে -
মেঘ জল ঝরাল চোখের।
এখন আমি তোমাকে ছেড়ে
দূরে চলে যাব।
অনেক দূরে, যেখানে তুমি বা সে
কেউই
আমাকে খুজে পাবে না।
হারিয়েছি মুখোশ কবেই
প্রতিবিম্বেরও পিছুটান ছেড়ে
আজ হব আমারই আপন।।
~অর্ণব রায়।
06.24.06
শুধু ট্রেন নয়।
06.05.06
নস্টালজিয়া
সারাটা দিন রোদ্দুর আর বৃষ্টি
লুকোচুরি খেলে, লুটোপুটি খেয়ে হল সারা।
মিষ্টি বাতাস আলোড়িত করে
তবু কেন বারে বার, বারে বার
ভেসে আসে — ” এই” ~
কোনদিন পরিচয় মেলে ধরে
আসো নি কাছে ~
তবু সবটুকু পাওয়ার আশায়
ছুটে ছুটে গেছি।
ফিরেছি নিঃস্বতর হয়ে।
দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষার নাম রেখেছি - ঝোড়া।
তারপর সময়ের পাগলাঝোড়ায়
অনেক ঝড় উঠেছে।
কেটেছে অনেক স্বপ্নবিহীন রাত্রি
স্বপ্নময় দিন।
এখন দুচোখে পড়েছি বাস্তবের চশমা।
সবটুকু নয়, শুধু একটু একটু করে
আজ গড়ে তুলি আমার সংসার।
তবু মাঝে মাঝে, রোদ ঝড় মাখামাখি করে
কেন জানি বারে বার, বারে বার
ফিরে আসে — “এই”~
~অর্ণব রায়
05.24.06
খোলা ম্যানহোল
প্রতিদিনের মত, কাজের শেষে,
চলেছে রাস্তায় অতি তাড়াতাড়ি।
উদ্বেগে, চিন্তায়, ভরা মুখ, ভাঙা গাল ,
যেতে হবে বাড়ি ।
ছেলেটার জ্র , মেয়েটার কাশি-
টানাপোড়েনে স্ত্রীর মুখ যেন ঝড়া ফুল বাসি।
অনিচ্ছায় - বোঝা বয়ে নিয়ে যাওয়া বলদের মতো,
কোনদিকে নেই হুশ– চারিদিকে বিপদ যে কতো।
গাড়ি ঘোড়া পার হয়ে এসে
ওঠে ফুটপাতে,
জীবন করতে হরণ
মরণ যে ফাঁদ পাতে।
খোলা ম্যানহোলে ডুবে গেল পূর্ণ শরীর,
নেই পাশে কেউ তারে আনিতে বাহির।
দম বন্ধ হয়ে আসে, তখনো মনেতে আশা–
ছেলে, মেয়ে, বন্ধু, পরিজন, স্ত্রীর ভালবাসা।
উদ্বেগে মাখানো মুখে, অভিমানে ভরা দুটি চোখ,
প্রতীক্ষায় ভাবে — এখনো আসেনা, কি দায়িত্বহীন লোক!
সব শেষ হয়ে গেছে, আসবেনা আর,
শেষ হবে না তার ব্যর্থ প্রতীক্ষার
প্রতিদিন - “চলছে চলবে, আমাদের দাবী মানতে হবে”।
মরণমুখী ম্যানহোলের ঢাকনাটাখোলাই কি রবে?
খোলা ছিল ম্যানহোল-দোষ তাতে কার?
হয়ে গেল তছনছ একটা নির্দোষ সংসার।
~ রাণী রায়।
05.20.06
প্রিয় বন্ধুর জন্মদিনে
আজ আর কোন বাঁধনে ধরা দিও না
আজ আর জীবনের রোজনামচাটা সম্বল করে
প্রতিবন্ধী কোর না নিজেকে।
তার চেয়ে বরং পথে নেমে পড়ো।
রক্তিম মাটি দুই হাতে মেখে
নাও তার ঘ্রাণ–
আবেগে নাচো, হাসো, কাঁদো, গাও
হও মাতোয়ারা।
শুধু—
শুধু ফুল তুলো না
আজ ফুল হয়ে ফোটো।
~ অর্ণব রায়

