09.14.06
পুজোর চিঠি
আজ বইখাতা ঘাটতে ঘাটতে অনেক বছর আগের একটা চিঠি পেলাম|পুজোর চিঠি, এক ভাইয়ের লেখা| তখন আমি চাকরি করছি জোরকদমে, থেমে দম নেবার কথা তখনো মাথা চাড়া দেয়নি| আজ চিঠিটা পড়ে মনে হল অনেকেই এর সাথে নিজেদের মিল খুজে পেতে পারে, তাই তুলে ধরলাম|
—————————————–
সেই চিঠি
রোজই যেমন অফিসে যাও, আজও গেছ বুঝি?
ঘিঞ্জি শহর, নোংরা, কাদা, বৃষ্টি গলিঘুঁজি
তারই মধ্যে বিশাল অফিস, লম্বা মিটিং হল
সকাল সন্ধে আলোচনা, জীবন জাতাকল|
বাজার নিয়ে চিন্তিত সব, প্রফিট বারবে কিসে?
আমার দিদি বাড়ি ফিরছে শেষ রাত্রির বাসে
এমন অনেক দাদা দিদি সকাল সন্ধে ভুলে
খরিদ্দার আর বাজার নিয়ে হিসেব কষে চলে|
এত কিছু হিসেব নিকেশ, তবুও কেন ভোরে
শিশির ভেজা বাগানে আজ শিউলি ঝরে পরে?
সোনালি রোদ আল্পনা দেয় সবুজ ভিজে ঘাসে
রেলের ধারে ঠান্ডা হাওয়া দোলা লাগায় কাশে|
অফিস যেতে ভুল হয়ে যায়, মন ছুটে যায় দূরে
সেই ছোট্টবেলা, ঢাকের বাদ্দি, এসব মনে পরে
পরবেই তো, জন্ম যখন এই বাংলার ঘরে
আগমনি যে এগিয়ে এল, একটা বছর পরে|
যতই থাকো এসি ঘরে, যতই করো কাজ
একটু উদাস হোতেই হবে… শরৎ এল আজ||
**************************
আমার উত্তর
অফিস ঘরে বসে থেকে, নানান কাজের ফাঁকে
হটাৎ দেখি হাত বারিয়ে নতুন দিন এক ডাকে
তা সত্তেও, আবার কাজের মধ্যে গেছি ডুবে
পুজোর তো রে অনেক দেরি, কাশ ফুটেছে সবে!
ঠিক বলেছিস, মনটা কিন্তু পূজোরই দিন গুনছে
শরৎ কালের মিঠে সকাল, কিন্তু কে তা শুনছে?
প্রতিদিনই বলছে ক্লায়েন্ট, স্ট্রাটেজি চাই খাসা
“আমার প্রডাক্ট সফল হবে”, এটাই যে তার আশা|
তাই তো পূজোর কথা ভাবার সময় কমই পাচ্ছি
নানান মিটিং, রিপোর্ট নিয়ে নিত্য লড়ে যাচ্ছি
তবু সেদিন তোর লেখা এই চিঠিখানি পড়ে
দুর্গা পূজার ছুটির আশায় মন উঠল ভরে|
কিছুক্ষনের জন্য ফেলে হাতের সকল কাজ
জানালা দিয়ে তাকিয়ে ভাবি, ‘সত্যি, শরৎ এল আজ’!
07.19.06
ভয়
গোধূলিবেলায় বারান্দায় এসে দাড়াঁই।
এ সময়টা বেশ আলো-আধাঁরি~
আড়াল থেকে পৃথিবীটাকে
দেখা যায় বেশ।
অবশ্য আমার পৃথিবী তো
ওই ভাঙ্গাচোরা রাস্তা
আর ভাঙ্গাচোরা সমাজ
ভাঙ্গাচোরা মানুষ
তাই সই।
তাই দেখি।
সন্ধ্যাবেলায় বারান্দায় এসে দাড়াঁই~
আকাশে তখন সবেমাত্র দু’একটা তারা
উঁকি দিয়ে ঝিকিমিকি জ্বলছে।
অবশ্য ওই তো আকাশ~
বিষবাষ্পে মলিন।
মলিন হৃদয়ে,
মলিন চোখে,
তাই দেখি।
রাত্রে ফের বারান্দাতে এসে দাড়াঁই।
চাঁদের আলোর সাথে
বেশ গল্প করি।
অবশ্য তখন কাউকেই আর
পড়ে না চোখে;
আর অজানা ভয় এক ছেঁকে ধরে।
আকাশে তখন কে যেন এসে দাড়াঁয়।
তাকে আমি ঠিক দেখতে পাই না-
সে তবু দেখে আমায়।।
~অর্ণব রায়
07.14.06
আমার আমি
বাড়িটিতে একটি তৃতীয় ব্যক্তিও ছিল।
আমি, তুমি ও সে ~
এই নিয়ে আমাদের সুখী সংসার।
বেশ ছিলাম;
হঠাৎ একদিন দমকা হাওয়া
এসে বলল “তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না~”
ঘাসফুল মাথা নেড়ে সায় দিল
আকাশে ভেসে থাকা আহ্লাদী মেঘ
বলল “ঠিক, ঠিক–”
তাকে দূর করে দিলাম।
তারপর শুধু আমি ও তুমি –
এই আকাশ, এই মাটি, এই জল
শুধু আমার আর তোমার।
বেশ ছিলাম;
কিন্তু দমকা হাওয়া, ফিরে এলো তবু
হায় হায় করে সে বলল,
“নেই, নেই –”
ঘাসফুল রইল চুপ করে -
মেঘ জল ঝরাল চোখের।
এখন আমি তোমাকে ছেড়ে
দূরে চলে যাব।
অনেক দূরে, যেখানে তুমি বা সে
কেউই
আমাকে খুজে পাবে না।
হারিয়েছি মুখোশ কবেই
প্রতিবিম্বেরও পিছুটান ছেড়ে
আজ হব আমারই আপন।।
~অর্ণব রায়।
06.05.06
নস্টালজিয়া
সারাটা দিন রোদ্দুর আর বৃষ্টি
লুকোচুরি খেলে, লুটোপুটি খেয়ে হল সারা।
মিষ্টি বাতাস আলোড়িত করে
তবু কেন বারে বার, বারে বার
ভেসে আসে — ” এই” ~
কোনদিন পরিচয় মেলে ধরে
আসো নি কাছে ~
তবু সবটুকু পাওয়ার আশায়
ছুটে ছুটে গেছি।
ফিরেছি নিঃস্বতর হয়ে।
দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষার নাম রেখেছি - ঝোড়া।
তারপর সময়ের পাগলাঝোড়ায়
অনেক ঝড় উঠেছে।
কেটেছে অনেক স্বপ্নবিহীন রাত্রি
স্বপ্নময় দিন।
এখন দুচোখে পড়েছি বাস্তবের চশমা।
সবটুকু নয়, শুধু একটু একটু করে
আজ গড়ে তুলি আমার সংসার।
তবু মাঝে মাঝে, রোদ ঝড় মাখামাখি করে
কেন জানি বারে বার, বারে বার
ফিরে আসে — “এই”~
~অর্ণব রায়
05.24.06
খোলা ম্যানহোল
প্রতিদিনের মত, কাজের শেষে,
চলেছে রাস্তায় অতি তাড়াতাড়ি।
উদ্বেগে, চিন্তায়, ভরা মুখ, ভাঙা গাল ,
যেতে হবে বাড়ি ।
ছেলেটার জ্র , মেয়েটার কাশি-
টানাপোড়েনে স্ত্রীর মুখ যেন ঝড়া ফুল বাসি।
অনিচ্ছায় - বোঝা বয়ে নিয়ে যাওয়া বলদের মতো,
কোনদিকে নেই হুশ– চারিদিকে বিপদ যে কতো।
গাড়ি ঘোড়া পার হয়ে এসে
ওঠে ফুটপাতে,
জীবন করতে হরণ
মরণ যে ফাঁদ পাতে।
খোলা ম্যানহোলে ডুবে গেল পূর্ণ শরীর,
নেই পাশে কেউ তারে আনিতে বাহির।
দম বন্ধ হয়ে আসে, তখনো মনেতে আশা–
ছেলে, মেয়ে, বন্ধু, পরিজন, স্ত্রীর ভালবাসা।
উদ্বেগে মাখানো মুখে, অভিমানে ভরা দুটি চোখ,
প্রতীক্ষায় ভাবে — এখনো আসেনা, কি দায়িত্বহীন লোক!
সব শেষ হয়ে গেছে, আসবেনা আর,
শেষ হবে না তার ব্যর্থ প্রতীক্ষার
প্রতিদিন - “চলছে চলবে, আমাদের দাবী মানতে হবে”।
মরণমুখী ম্যানহোলের ঢাকনাটাখোলাই কি রবে?
খোলা ছিল ম্যানহোল-দোষ তাতে কার?
হয়ে গেল তছনছ একটা নির্দোষ সংসার।
~ রাণী রায়।
05.20.06
প্রিয় বন্ধুর জন্মদিনে
আজ আর কোন বাঁধনে ধরা দিও না
আজ আর জীবনের রোজনামচাটা সম্বল করে
প্রতিবন্ধী কোর না নিজেকে।
তার চেয়ে বরং পথে নেমে পড়ো।
রক্তিম মাটি দুই হাতে মেখে
নাও তার ঘ্রাণ–
আবেগে নাচো, হাসো, কাঁদো, গাও
হও মাতোয়ারা।
শুধু—
শুধু ফুল তুলো না
আজ ফুল হয়ে ফোটো।
~ অর্ণব রায়
05.19.06
হতাশা
অমৃত করিব পান
অমৃতে করিব স্নান
চাই শুধু চাই
ভাবিয়া অমৃত লইনু যাহা
কখন হল বিষ
ভেবে নাহি পাই
~ রাণী রায়
অভিনয়
হাসছো তুমি, দেখছি আমি
তোমার এ হাসি কি কান্না নয়?
এমনি তর করছ ভান,
যেন সকল দুঃখ করেছ জয়।
আমার চোখকে দেবে ফাঁকি
কেমন? অত সোজা নয় –
আর কেউ না জানুক, আমি জানি
তোমার কান্না-হাসির পরিচয়।
~ রাণী রায়
05.18.06
কাজলা দিঘী
কাজলা দিঘী,কাজলা দিঘী,কাজলা মেয়ে কৈ?
পথের পানে চেয়ে আমি আশায় আশায় রই
কালকে আমার ঘুম আসেনি রাতে
শয্যা আমার ভিজেছিল চাঁদের জোছ্নাতে
তোমার দিঘীর কালো জলে,সবার দেখি সুখ
আমার বেলায় আঁধার দেখি,দুখ্খে ঢাকি মুখ
নাইতে নেমে সাঁতার কাটে কত শত জনা
আমিই কেবল ভয়ে মরি সাঁতার যে নেই জানা
জ্যোত্স্না য্খন নাইতে নামে তোমার ভরা বুকে
বাতাশ তখন তোমায় দোলায়,পরম পাওয়ার সুখে
নদীর মতন নও তবুও ঢেউয়ের এতো খেলা
বসে বসে দেখি আমি, কাটে সারা বেলা।
~ রাণী রায়
স্বাধীনতা
মাঝে মাঝে একলা কোথাও হারিয়ে যেয়ো৷
পেছনে পরে থাক বাকি সবকিছু-
য্ত সব দায়িত্ত, যত সম্প্র্ক
হারিয়ে যেও স্বাধীনভাবে, নিজের মনে৷
আমাদের রোজকার জীবনটা বড্ডো একঘেয়ে
এক একটা দিন অবিকল আরেকটা দিনের মতন-
বর্ণহীন, ক্লান্তিকর৷
আমার মতন, তোমারো কি বিদ্রোহ করতে
সাধ জাগে না?
তাই বলি… মাঝে মাঝে একলা কোথাও হারিয়ে যেও৷

